শ্রুতি ও গ্রাম | বেহালা-দর্পণ ও গণিত-সঙ্গীত

শ্রুতি ও গ্রাম – যেমন নাদদণ্ডকে খণ্ড খণ্ড করিয়া সাতটা স্বরের জন্ম হইয়াছে, সেইরূপ স্বরকে আবার খণ্ড বিখণ্ড করিয়া শ্রুতি কল্পিত হইয়াছে। সুতরাং মুচ্ছ না সহযোগে এক স্থর হইতে অপর জুরে যাতায়াতে পথমধ্যে শ্রুতির সহিত স্বাক্ষাৎ হয়। শ্রুতির সংখ্যা বাইশটা মাত্র। আমাদিগের সঙ্গীতের যেরূপ স্বভাব, তাহাতে সাতটার স্থলে বারটাতেও কুলায় না।

অতিকোমল ও অতিতীব্র স্বরের সর্ব্বদা প্রয়োজন হয়। আর্য্যগণ সেই অভাব পূর্ণ করিবার জন্য সাতটী স্বরকে দ্বাবিংশতি ভাগে বিভক্ত করিয়া শ্রুতি নামকরণ করিয়াছেন। উহাদের সংখ্যা সকল সুরে সমান ভাগে নাই;-বড়জে ৪, ঋষভে ৩, গান্ধারে ২, মধ্যমে ৪, পঞ্চমে ৪, ধৈবতে ৩, এবং নিষাদে ২ টা। নিম্নে উহাদিগের নামগুলি প্রদত্ত হইল; যথা-

শ্রুতি ও গ্রাম | বেহালা-দর্পণ ও গণিত-সঙ্গীত

শ্রুতি

তীব্রা, কুমদ্বতী, মন্দা, ছন্দোবতী সুরস্থিতা। 

দয়াবতী, রঞ্জিনী আর রতিকা ঋষভাশ্রিতা ॥ 

রৌদ্রী, ক্রোধী গান্ধারের চির-অনুগতা। 

বস্ত্রিকা, প্রসারিণী, প্রীতি, মার্জনী মধ্যমরতা। 

ক্ষিতি, রক্তা, সন্দীপনী, আলাপনী, শ্রুতি।

পঞ্চম বিহনে এদের নাহি অন্য গতি। 

মন্দন্তী, রোহিণী, রম্যা ধৈবত রঙ্গিণী। 

সানন্দে উগ্রা, ক্ষোভিণী, নিষাদ সঙ্গিনী।

 

শ্রুতি ও গ্রাম | বেহালা-দর্পণ ও গণিত-সঙ্গীত

 

গ্রাম

বেদাদি শাস্ত্রে উদাত্ত, অনুদাত্ত ও সরিৎ অর্থাৎ উচ্চ, অনুচ্চ ও মধ্য এই ত্রিবিধ গ্রামের উল্লেখ আছে। সঙ্গীত গ্রন্থাদিতে ঐ অনুচ্চ বা নাদ সুরের গ্রামকে উদারা, মধ্য সুরের গ্রামকে মুদারা এবং উচ্চ সুরের গ্রামকে তারা গ্রাম কহে। ঐ এক এক গ্রামে সাঋগম আদি সপ্ত সুর লইয়া একটি সপ্তক হইয়া থাকে। সুতরাং গ্রাম অর্থে আদি ।

স্বর ষড়জের ওজন এবং সপ্তক অর্থে গ্রামের অবয়ব বুঝিতে হইবে। ঐ ষড়ঙ্গাশ্রিত বিশুদ্ধ সুরের গ্রামকে মুখ্য গ্রাম কহে। আবার কখন কখন ঐ ষড়জ, পঞ্চম ও মধ্যমাদি রূপে পরিণত হইয়া গ্রাম গঠিত হইয়া থাকে। তাহার নাম গৌণ অথবা বিকৃত গ্রাম। কেহ কেহ কহেন যে, মধ্যমকে ষড়জ করিলে মধ্যম গ্রাম ও পঞ্চমকে ষড়জ করিলে পঞ্চম গ্রাম হয়, কিন্তু এ কথা যুক্তিবিরুদ্ধ।

কেননা, উহাতে ষড়জের প্রাধান্য লোপ হইয়া মধ্যমাদিরই গৌরব বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ মধ্যম পঞ্চমই ষড়জ হইয়া যায়। সুতরাং উহাকে গ্রাম পরিবর্তন না বলিয়া ষড়জ পরিবর্তন বলা যাইতে পারে। অতএব, ষড়জকে অধ্যম পঞ্চমাদি স্বরে পরিণত করিয়া সেই হিসাবে গ্রাম গঠন করাই প্রকৃষ্ট পদ্ধতি।

গণিত সঙ্গীতের গ্রাম-প্রকরণে ইহার পরিচয় পাইবেন। যদিও হিন্দুসঙ্গীতে তিনটার অধিক গ্রামের উল্লেখ নাই, কিন্তু রাগাদির বাহুল্য বিস্তার অথবা যুক্তালঙ্কারের অনুরোধে উদারার পূর্ব্ববর্তী ও তারার পরবর্তী গ্রামস্থ সুরের আবশ্যকতাও হইতে পারে। এই জন্য তাহাদিগকে যথাক্রমে অতিউদারা ও অতিতারা গ্রাম কহা যায়। গাঁত গতাদি লিখিবার সময় নিম্নে ও উপরে বিন্দু সংযোগে গ্রামের বিভিন্নতা প্রকাশ পাইবে। নিম্নে তাহার আদর্শ প্রদত্ত হইল।

শ্রুতি

উদারার নিম্নে ও তারার উপরে একটা করিয়া বিন্দু, মুদারার কিছুই নাই। অতিউদারা ও অতিতারার একটা করিয়া বিন্দু বেশী; যথা-

শ্রুতি

 

আরও পড়ুনঃ

1 thought on “শ্রুতি ও গ্রাম | বেহালা-দর্পণ ও গণিত-সঙ্গীত”

Leave a Comment